You are currently viewing মার্ক জুকারবার্গের জীবনী | Mark Zuckerberg Biography

মার্ক জুকারবার্গের জীবনী | Mark Zuckerberg Biography

সমাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কথা উঠলেই সবার নজর যায় ফেইসবুকের মার্ক জুকারবার্গের জীবনী দিকে। বর্তমান সময়ে সবচেয়ে জানপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুক। প্রায় ২০০ কোঠির বেশী ব্যবহারকারী রয়েছে জনপ্রিয় এ সাইটের।

আর যিনি কেবলমাত্র এই একটি সাইট দিয়ে বিলিয়নিয়ারে পরিণিত হয়েছেন – তিনি হলেন ফেইসবুকের প্রতিষ্টাতা মার্ক জুকারবার্গ Mark Zuckerberg। 

মার্ক জুকারবার্গের জীবনী। Mark Zuckerberg Biography

বন্ধুরা চলুন, জেনে নেই মার্ক জুকারবার্গ ও ফেইসবুকের ইতিবৃত্ত সম্পর্কে। শেষ পর্যন্ত আর্টিকেলটি পড়ার অনুরুধ রইল।

Mark Zuckerberg Date of birth জন্ম ও পরিচয়।

মার্ক এলিয়াট জুকারবার্গ Mark Elliot Zuckerberg। যাকে আমরা মার্ক জুকারবার্গ নামে চিনি। তিনি একজন কম্পিউটার প্রোগ্রামার ও ডেবোলপার। তিনি জনপ্রিয় ফেইসবুকের প্রতিষ্টাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা।

তিনি ১৪ মে ১৯৮৪ সালে আমেরিকার নিউওয়ার্কে শহরের হোয়াইট প্লেইনে জন্ম গ্রহন করেন।

Mark zuckerberg Family। পিতামাতা

মার্ক জুকারবার্গ Mark Zuckerberg। হোয়াইট প্লেইন্সের এক স্বচ্ছল পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি একজন ইহুদি। তার পিতামাতাও ইহুদি। মার্ক জুকারবার্গের পিতা এডওয়ার্ড জুকারবার্গ একজন দাঁতের চিকৎসক ছিলেন। তিনি বাড়ির সাথে সংযুক্ত চেম্বারে বসে দাঁতের চিকিৎসা দিতেন। তাঁর মা ক্যারেন মার্কও ছিলেন একজন চিকিৎসক। তিনি একজন  মানসিক চিকিৎসক হিসেবে কাজ করতেন।

জুকনেট আবিষ্কার।

চিকিৎসক পরিবারে জন্ম নেওয়া মার্ক জুকারবার্গের চিকিৎসক হবার প্রতি অনীহা ছিল। তাঁর ঝুক ছিল কম্পিউটারের প্রতি। (Mark Zuckerberg) মার্ক জুকারবার্গ বাবার রিসিপশন নিয়ে ব্যাথিত ছিলেন। এসব ‘কন্টাক্ট সিস্টেম’ তাঁর পছন্দ লাগত না। তাই তিনি বাবার কাজের সুবিধার্থে ‘জুকনেট’ নামে একটি মেসেজিং সিস্টেম বতৈরি করেন। অতি সহজে এর মাধ্যমে যোগাযোগ করা যেত। তখন তার বয়স ছিল মাত্র ১২ বছর।

Elon Musk Biography

Computer Game কম্পিউটার গেমস

মার্ক জুকারবার্গের (Mark Zuckerberg) অতি অল্প বয়সে কম্পিউটারের প্রতি আগ্রহ ছিল তুঙ্গে। তিনি বাল্যকালে বন্ধুদের সাথে খেলাধুলার জন্য তৈরি করেন একটি কম্পিউটার গেম। শুধু মাত্র খেলারছলে গেমটি তৈরি করেন। তাঁর বন্ধুরা ছিল শিল্পী। তাঁরা বিভিন্ন বিষয় আকাঁআকি করত। আর তিনি সেগুলোকে নিয়ে কম্পিউটার গেমের বিভিন্ন ফেচার হিসাবে এড করেন।

ডেভিড নিউম্যান

যত দিন যাচ্ছিল তত (Mark Zuckerberg) মার্ক জুকারবার্গের কম্পিউটারের প্রতি আগ্রহ বাড়ছিল। বিষয়টি জুকারবার্গের পিতামাতার নজরে পড়ে। তাই তাঁরা ‘ডেভিড নিউম্যান’ নামক একজন কম্পিউটার শিক্ষক নিয়োগ করেন। তিনি প্রতি সাপ্তাহে একদিন ক্লাস নিতেন। পরবর্তীতে তিনি জুকারবার্গের মত ক্ষুধে কম্পিউটার প্রেমিককে শিক্ষা দেওয়া কষ্ট সাধ্য বলে সাংবাদিকদের জানান।

Mark zuckerberg Study পড়াশুনা।

মার্ক জুকারবার্গ (Mark Zuckerberg) পড়াশুনা শুরু করেন

‘মাধ্যমিক বিদ্যালয় এক্সিটার এ্যাকাডেমি’তে।সেখানা তিনি ভালো দক্ষতা দেখান এবং ক্লাশ ক্যাপ্টেন নির্বাচিত হন। সাহিত্যেও তিনি মেধার স্বক্ষর রাখেন। ক্লাসিক সাহিত্যে তিনি বিশেষ ডিপ্লমা অর্জন করেন। কিন্তু জুকারবার্গের আগ্রহজুড়ে ছিল কম্পিউটার।

হাভার্ড ও আবিষ্কার।

মাধ্যমিক পড়ালেখা শেষ করে (Mark Zuckerberg) মার্ক জুকারবার্গ হাভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। সেখানে তিনি অতি অল্প সময়ে জনপ্রিয় হয়ে উঠেন। পড়ায় একজন ভালো ছাত্র হিসাবে নায়,  এজজন প্রোগ্রামের হিসাবে। কারো যদি কোনো সফটওয়্যার তৈরির প্রয়োজন হত সবাই একসাথে আঙুল তুলত জুকারবার্গের দিকে। বলত এতো জুকারবার্গের কাজ, এটাত তাঁর জন্য হাতের খেলমাত্র।

Crusematch প্রোগ্রাম।

হাভার্ডে যখন তিনি অধ্যয়নরত সেই সময়েই তিনি “Coursematch” নামে একটি প্রোগ্রাম তৈরী করেন। প্রোগ্রামটি ছিল ক্লাস নির্বচনের একটি সহজতর উপয় সম্বলিত। প্রোগ্রামটি  অন্য শিক্ষার্থীদের কোর্স নির্বাচনের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে সুবিধাজনক ক্লাসটি সিলেকৃট নিতে সাহায্য করত। ফলে কোনো ধরনের ঝামেলা পোহাতে হত না।

Facemash প্রোগ্রাম।

Facemacth” নামে আরও একটি প্রোগ্রাম মার্ক জুকারবার্গ (Mark Zuckerberg) তৈরী করেছিলেন। প্রেগ্রামটি ভোটপ্রদান জাতীয় ছিল। ক্যাম্পাসের যে কোনও দুইজন শিক্ষার্থীর ছবি সেট করে হত। তারপর তুলনা করত। এবং এদের মধ্যে ভোট প্রদান করা হত। ক্যামপাসের সাবাই ভোট দিতে পারত। ‘এদের মধ্যে  বেশি আকর্ষণীয় ‘এ ব্যাপারে অন্য ইউজাররা ভোট দিতে পারত।প্রোগ্রামটি তুমুল জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। কিন্তু ক্যাম্পাস কতৃপক্ষ এটিকে ভলো চোখে দেখে নি। ক্যাম্পাসে কর্তৃপক্ষ সফটঅয়্যারটির ব্যবহার বন্ধ করে দেয়।

কিন্তু Facemacth এর হাত ধরে তাঁর নতুন সম্ভবনার দুয়ার উন্মুক্ত হয়। তিনি এটাকে আরো উপডেট করে  ২০০৪ সালের জানুয়ারি তে facebook নিয়ে কাজ শুরু করে দেন।

Bill Gates Biography

Facebook

বর্তমান সময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় সামাজিক যুগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক facebook(Mark Zuckerberg) মার্ক জুকারবার্গ ও তাঁর   তিন বন্ধু ডাসটিন মস্কোভিজ, ক্রিস হাগ্স এবং এদুয়ার্দো স্যাভেরিনকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক তৈরি করেন। তাঁরা হাভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া কালীন সময়ে হলে বসে Facebook নিয়ে কাজ করতে শুরু করেন। ৪ ফেব্রুয়ারি ২০০৪ সালে Facebook প্রতিষ্টা করেন। জুকারবার্গ হাভার্ডে দ্বিতীয় বর্ষে উঠে পড়ালেখা ছেড়ে দেন, শুধুমাত্র ফেইসবুককে পূর্ণকালীন সময়আদেবার জন্য।

প্রথমে  বন্ধুদের সাথে যোগাযোগ,  প্রোফাইল ও ছবি উপলোড এর জন্য এটা ব্যবহার করা হত। কিন্তু তিনি যখন হাভার্ড ছেড়ে কোম্পানীকে ক্যালিফোর্নিয়ার পাওলো আলটোতে স্থানান্তর করলেন। হাভার্ড ছাড়া অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর জন্য Facebook ইউজ উন্মুক্ত করে দেন।  তখন   ২০০৪ সালের শেষে ফেসবুকের ব্যবহারকারী দাঁড়ালো ১০ লক্ষেরও বেশী।

Facebook  নিয়ে বিপত্তি।

২০০৪ সালে facebook এর যাত্রা শুরু হাবার পর খুব শিগগির ছাড়িয়ে পরে। মিলিয়ন মিলয়ন ইউজার এই সাইটে জয়েন হাতে থাকে।  মার্ক জাকারবার্গ খিব একটা বেগ পান

কিন্তু কিছু দিনের মধ্যে তিনি অভিযোগের সম্মুখীন হন। ডাটা চুরির অভিযোগ।

২০০৬ সালে  হার্ভার্ড কানেশনের উদ্যোক্তারা দাবি করলেন – যে জুকারবার্গের ফেসবুকের আইডিয়াটি প্রকৃতপক্ষে ‘হার্ভার্ড কানেশনে’র আইডিয়া থেকে নেওয়া, অর্থাৎ তাঁদের দাবি (Mark Zuckerberg) জুকারবার্গ এটা চুরি করেন।  তাঁরা দুইটি দাবি করলেন:-

১, তাঁদের ব্যবসার ক্ষতির জন্য জুকারবার্গ দায়ী

২, এবং তাকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। জুকারবার্গ সোজাসাপটা জবাব দিলেন -নেটওয়ার্ক দুটি  এক না। কিন্তু আইনের মারপ্যাঁচে তিনি হেরে যান।

‘দি নিউ ইয়র্ক’ এর এক সাক্ষ্যতে (Mark Zuckerberg) জুকারবার্গ এ বিষয়ে ক্ষামা চান।এ বিরোধ ২০১১ পর্যন্ত অব্যাহত থাকে।

এ্যাক্সিডেন্টাল বিলিয়নেয়ারস বই

বেন মেজরিচ  ‘এ্যাক্সিডেন্টাল বিলিয়নেয়ারস’ নামক একটি বই প্রকাশ করেন। বইটি ছিল মার্ক জুকারবার্গকে নিয়ে। বইটির চরিত্র ছিল একেবারে বেখাপ্পা। কাল্পনিক, মনগড়া ও বস্তবের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ। বইটি নিয়ে অনেক সমালোচনা সামলাতে হয় বেন মেজরিচকে।

The Social Network ফিল্ম।

বেন মেজরিচ ‘এ্যাক্সিডেন্টাল বিলিয়নেয়ারস’ বইটির সমালোচনার ঝড় সহ্য করতে পারেন নি। তিনি বইটি চিত্রশিল্পী এ্যারন সরকিনের কাছে বিক্রয় করে দেন। এ্যারন সারকিন অবশ্য এটাকে নতুন রূপ দান করেন। এবং একটি প্রশংসনীয় ফিল্ম নির্মাণ করেন।  যাকে আমার The Social Network ফিল্ম নামে চিনি।

এই ফিল্মে মার্কের  Facebook প্রতিষ্টার বিভিন্ন ইন্টারেস্টিং বিষয় তুলে ধরা হয়। ফিল্মটি ২০১০ সালে রিলিজ হয়। এবং সে বছর অস্কারের জন্য মনোনীত হয়। মার্ক জুকারবার্গের অবশ্য দাবী ফিল্মটির অধিকাংশ চিত্র বাস্তবের সাথে মিল নেই।

Mark Zuckerberg Wife জুকারবার্গের স্ত্রী

জুকারবার্গের স্ত্রীর নাম হলো “প্রিসিলা চ্যান”

তিনি একজন চীনা নাগরিক।

This Post Has 2 Comments

Leave a Reply