You are currently viewing ক্ষণজন্মা আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর স্যার ( Dr. Khandaker Abdullah Jahangir )

ক্ষণজন্মা আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর স্যার ( Dr. Khandaker Abdullah Jahangir )

Dr. Khandaker Abdullah Jahangir

হারিয়ে যাওয়া এক নক্ষত্র ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ.।ইসলাম সম্পর্কে সুগভীর পাণ্ডিত্য ও জ্ঞানগর্ভ আলোচনায় কারণে অতি অল্প সময়েই তিনি বাংলাদেশের সর্বসাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠেন।

কিন্তু প্রকৃতির নিয়ম হলো যুগে যুগে বিশ্ব বিখ্যাত ব্যক্তিরা ক্ষণজন্মা হয়ে থাকেন। প্রকৃতির এই আমুল সত্যকে বস্তবে রূপদান করে আমাদের সবার মন জয় করে পাড়ি জমান না ফেরার দেশে, আমাদের শ্রদ্ধেয় আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর স্যার। কিন্তু তিনি ইসলামের অবিনশ্বর সেবার মাধ্যমে জায়গা করে নিয়েছেন আমাদের মণিকোঠায়।

প্রফেসর ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রাহিমাহুল্লাহকে আল্লাহ তাঁর কাছে নিয়ে গেছেন। আজ থেকে চারবছর আগে তিনি একটি গাড়ি এক্সিডেন্টের কারণে মাগুরাতে মারা গিয়েছিলেন।

আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীরের জন্ম: 

ড. জাহাঙ্গীর ১৯৬১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি ঝিনাইদহের ধোপাঘাট গোবিন্দপুর গ্রামে ধার্মিক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা খোন্দকার আনওয়ারুজ্জামান ও মায়ের নাম বেগম লুৎফুন্নাহার।

দাম্পত্য জীবন:

আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর ব্যাক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন।  ফুরফুরা শরিফের পীর আব্দুল কাহার শরিফের মেয়ে ফাতেমা শরিফ ছিলেন উনার সহধর্মীনি।

ফুরফুরা পীর সাহেবের সাথে পারিবারিক সম্পর্কের কারণে তাকে অনেক কটু কথা শুনতে হয়েছে। অনেকে ত আবার তাকে বলতে লাগলেন, “আপনি খারাপ হয়ে গেছেন  ” প্রতিত্তুরে তিনি হাসিমাখা মুখে বলতেন

” আমি আবার কখন ভাল হলাম, আমি ত খারাপই ছিলাম “

ফুরফুরা শরীফের অনেক শাখা ছিল। প্রতিটি শাখা বিদায়াতে ভরপুর ছিল।  আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর সেগুলো ধুয়ে-মুছে ছাফ করেন।উনার শশুর পীর সাহেব উনার মতামতকে মূল্যায়ন করতেন,অকপটে স্বীকার করে নিতেন।মেনে নিবেন না কেন? উনি ত নিজের পকেট থেকে কথা বলতেন না,বলতেন কুরআন সুন্নাহর আলোকে, সেই আলোয়  ফুরফুরা শরীফের বিদায়াতী কার্যক্রম ভস্ম হয়ে  যায়। এভাবে ফুরফুরা শরীফ বিদায়াত মুক্ত হয়।

শিক্ষা জীবন :

আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর dr khandaker abdullah jahangir স্যার ছোট বেলা থেকে তুখোড় মেধাবী ছিলেন।

  • তিনি ঢাকা সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা থেকে ১৯৭৩ সালে দাখিল,
  • ১৯৭৫ সালে আলিম,
  • এবং ১৯৭৭ সালে ফাজিল,
  • ১৯৭৯ সালে হাদিস বিভাগ থেকে কামিল পাস করেন।
  • এরপর তিনি সৌদি আরবের রিয়াদের ইমাম মোহাম্মাদ বিন সাঊদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৮৬ সালে অনার্স,
  • ১৯৯২ সালে মাস্টার্স ও ১৯৯৮ সালে পি.এইচ.ডি ডিগ্রি অর্জন করেন।

রিয়াদের অধ্যয়নকালে তিনি বর্তমান সৌদি বাদশাহ ও তৎকালীন রিয়াদের গভর্নর সালমানের হাত থেকে পর পর দু’বার সেরা ছাত্রের পুরস্কার গ্রহণ করেন। সৌদিতে তিনি শায়খ বিন বাজ বিন উসায়মিন, আল জিবরিন ও আল ফাউজান সহ বিশ্ববরেণ্য স্কলারদের সান্নিধ্যে থেকে ইসলাম প্রচারে বিশেষ দীক্ষা গ্রহণ করেন।

কর্ম জীবন:

রিয়াদে অধ্যয়নকালে তিনি উত্তর রিয়াদ ইসলামি সেন্টারে দাঈ ও অনুবাদক হিসেবে প্রায় তিন বছর কর্মরত ছিলেন। এছাড়াও তিনি ইন্দোনেশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে বিভিন্ন বিষয়ে উচ্চতর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।

ড. আবদুল্লাহ জাহাঙ্গীর (dr khandaker abdullah jahangir ) চাইলেই সৌদি আরবে থেকে যেতে পারতেন এবং দু’হাত ভরে টাকা ইনকাম করতে পারতেন।সে সময় তিনি  লোভনীয় চাকরির প্রস্তাব উপেক্ষা করে বাংলাদেশের  ইসলাম প্রচার ও সমাজ সংস্কারের পথ বেছে  নিয়েছেন। ইসলাম প্রচার ছিল তার মুখ্য উদ্দেশ্য। তাই তিনি আয়েশী জীবন ত্যাগ করে গ্রহণ করেন ইসলাম প্রচারের কণ্টকাকীর্ণ পথ।

  • দেশে এসে ইসলাম প্রচারসহ নানা সামাজিক কর্মকাণ্ডে আত্মনিয়োগ করেন। পেশায় তিনি ছিলেন একজন শিক্ষক।
  • ১৯৯৮ সালে কুষ্টিয়া ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের আল হাদিস অ্যান্ড ইসলামি স্টাডিজ বিভাগের লেকচারার হিসেবে যোগদান করেন।
  • ২০০৯ সালে তিনি একই বিভাগে প্রফেসর পদে উন্নীত হন।

এছাড়াও তিনি ঢাকার ঐতিহ্যবাহী দারুস সালাম মাদ্রাসায় খণ্ডকালীন শায়খুল হাদিস হিসেবে সহীহ বুখারীর ক্লাস নিতেন।

তিনি ওয়াজ মাহফিলের অত্যন্ত জনপ্রিয় একজন আলোচক ছিলেন। বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে সফর করে তিনি মানুষকে শোনাতেন শাশ্বত বাণী, ইসলামের বিশুদ্ধ বাণী।

রচনাবলি:

Dr. Khandaker Abdullah Jahangir Books:

স্যার (রা) বাংলা ইংরেজি ও আরবি ভাষায় সমাজ সংস্কার, গবেষণা ও শিক্ষামূলক প্রায় পঞ্চাশের অধিক গ্রন্থের রচয়িতা তিনি।কয়েকটি হলো-

  • এহয়াউস সুনান,
  • রাহে বেলায়াত
  • হাদিসের নামে জালিয়াতি,
  • ইসলামের নামে জঙ্গীবাদ।
  • ইযহারুল হক।
  • ইসলামি আকিদাহ।
  • পোষাক পর্দা ও দেহসজ্জা।
  • আল মাওযুয়াত।
  • সালাতের মধ্যে হাত বাধার বিধান।
  • শবে বরাত।

All Books Here Visit This Site Rokomari.com

আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর স্যারের অমর কৃর্তী আস সুন্নাহ ট্রাস্ট

আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর স্যারের জীবনের অমর কৃর্তী হল তাঁর  নিজ হাতে  গড়া আস সুন্নাহ ট্রাস্ট । এই প্রতিষ্টানটি আমাদের কাছে তাঁর রেখে যাওয়া আমানত।

আস সুন্নাহ ট্রাস্ট তিনি নিজস্ব ভূমির উপর নিজ অর্থায়ানে গড়া উঠা প্রতিষ্টান। সুবিশাল জায়গা নিয়ে গড়া উঠা  প্রতিষ্টানটি সুন্নাতের আলোকে উদ্ভাসিত আলেম জাতিকে উপহার দিয়ে যাচ্ছে। সেই সাথে সাপ্তাহিক, মাসিক প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আমাদের দ্বীনি চাহিদা পূরণ করে আসছে।

চরিত্র :

মরহুম আবদুল্লাহ জাহাঙ্গীর ব্যক্তিজীবনে অত্যন্ত সদালাপী, বিনয়ী, উম্মাহর জন্য দরদী, মুখলিস, পরমত সম্মানকারী, যুগ সচেতন, ভারসাম্যপূর্ণ, উম্মাহর ঐক্য ভাবনায় বিভোর, প্রাজ্ঞ ও পণ্ডিত হিসেবে সব মহলে সমাদৃত ছিলেন।

মৃত্যু

১১ মে ২০১৬ (মর্মান্তিক এক সড়ক দুর্ঘটনায় ইন্তেকাল করেন) ১৯৬১সালের ১ ফেব্রুয়ারী উম্মতের দরদী এ মানুষটির মৃত্যুর পর বাংলার আকাশে নেমে আসে এক শুকের ছায়া।

পরিশেষে দোয়া করি আল্লাহ যেন তাকে জান্নাতুল ফেরদাউস নসিব করেন আমিন।

ক্ষণজন্মা আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর স্যার

Thanks to Mahbub alom  & MH Marwan

 

 

Leave a Reply