You are currently viewing বিটকয়েন কি, এটি কিভাবে কাজ করে এবং Bitcoin কিভাবে উপার্জন করা যায়?

বিটকয়েন কি, এটি কিভাবে কাজ করে এবং Bitcoin কিভাবে উপার্জন করা যায়?

আজকের পোস্টটি হল বিটকয়েন কি, বিটকয়েন কিভাবে কাজ করে এবং Bitcoin কিভাবে উপার্জন করা যায়? এ সব তথ্য নিয়ে। BTC বা বিটকয়েন এই ক্রিপটোকারেন্সি আসার পর থেকে তুমূল জনপ্রিয় হচ্ছে। তাই বিটকয়েন সম্পর্কে জানার মানুষের চাহিদা বাড়তেছে দিন দিন। তাই আমরা আজকের আর্টিকেলে বিটকয়েন সম্পর্কে সম্পূর্ণ তথ্য আপনার কাছে শেয়ার করব তাই পোস্টটি সম্পূর্ণ পড়ার অনুরোধ রইল।

Table of Contents

বিটকয়েন অর্থ কি?

ইলেকট্রনিক মুদ্রা ,যা ধরা বা ছুয়া যায় না, যেমন বিকাশের টাকা। বিট কয়েনকে বলা হয় ’ভর্চুয়াল গুল্ড”।দেশের প্রচলিত ভার্চুয়াল মুদ্রার সাথে এর প্রার্থক্য হল এর কোন কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রক নেই।

পৃথিবী যত সামনের দিকে এগোচ্ছে টাকার ভেলো দিন দিন কমছে। আজ থেকে দশ বছর আগে আপনি যে পরিমান টাকা দিয়ে যে পরিমাণ জিনিস ক্রয় করতে পারতেন এখন কিন্তু সেটা আর সম্ভব হয়ে উঠছে না, তার মানে কি আপনার টাকার ভেলু কমে যাচ্ছে!!  আর এটা সকল দেশের কারেন্সির ক্ষেত্রেই ঘটেছে।

ভেলু বলতে কি বুঝায় আসলে ?

মনে করোন আপনি আপনি একটি ঘোড়া কিনবেন এবং আপনার কাছে স্বর্ণ বা রৌপ্য মুদ্রা আছে। এখন আপনি ঘোড়া বিক্রেতাকে বললেন এই স্বর্ণ মুদ্রার বিনিময় আপনার ঘোড়াটি কিনতে চাই এবং ঘোড়ার মালিক ও এটা গ্রহণ করল, এটা ভেবে যে এটার ভেলু আছে , সে  এটা দিয়ে তার চাহিদা পুরন করতে পারবে অন্য কাউকে দিলে সে এটা গ্রহন করবে এবং সে এটার বিনিময় অন্যকিছু কিনতে পারবে। তার মানে এখানে  কি পেলাম, স্বর্ণর একটা ভেলু আছে যার মাধ্যমে সে চাইলে অন্য কিছু কিনতে পারে আবার ঘোড়ার ও একটা বেলু আছে সেটা দিয়ে সে চাইলে স্বর্ণ বা রৌপ্য মুদ্রা পেতে পারে।  তার মানে দুটিরই ভেলু আছে। আর যার ভেলু আছে তাকেই আমরা মুদ্র বলি।

ভার্চুয়াল বা ডিজিটাল মুদ্রা কী?

ডিজিটাল মুদ্রা বলতে ইন্টারনেট ভিত্তিক মুদ্রাকে বুঝায়। যাকে চাইলেও আপনি কখন চুয়ে দেখতে পারবেন না। আপনি শুধু জানবেন আপনার একাউন্টে এত টাকা আছে।যেমন বিকাশের মুদ্রা বা টাকা।

বর্তমান সময়ে এটি বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। টাকার ভেলু কমে যাওয়ায় এবং মানুষ গুল্ড কারেন্সি থেকে বেরিয়ে আসার কারনে দিন দিন এটি চাহিদা বেরেই চলছে। টাকার আরেকটি বৈশিষ্ট্য হল লিমিটেশন যেমন গুল্ড যেমর গুল্ডের ভেলু আছে কারণ এটি সীমিত ঠিক তেমনি ভাবে বিটকয়েনের সংখ্যা ও সীমিত তাই এটিরও ভেলু আছে।

ডিজিটাল মুদ্রা বা কিপ্টোকারেন্সি সমুহ।

বিটকয়েন আবিষ্কারক কে?

২০০৯ সালে জাপানি নাগরিক সাতোশি নাকামোতা নামের একজন বা একদল সফটওয়ার বিজ্ঞানী ক্রিপ্টোকারেন্সির উদ্ভাবন করেন।

তাদের উদ্ভাবনের উদ্দেশ্য ছিল যেহেতু বিশ্ব বাজারে স্বর্ণের চাহিদা দিন দিন কমছে এবং কারেন্সি ভেলু ও দিন দিন কমছে তাই এমন  একটি মুদ্র আবিস্কার করা চাই যেটা হবে সার্বজনীন। যার ভেলু আছে এবং সরাসরি লেনদেন করা যায়,কোন মাধ্যমের প্রয়োজন হয় না।

যেমন আমরা যখন বিদেশ থেকে টাকা পাঠাই তখন ব্যাংকের সাহায্য নিতে হয়। ব্যাংকে ভেলু অনুযায়ী টাকার ট্রানজিশন ঘটিয়ে আমাদের টাকা দিয়ে থাকে।  ঠিক তেমনি ভাবে  বিকাশ ও আমরা টাকা পাঠালে বিকাশ এপের সাহায্য নিতে হয়।

কয়েকটি জনপ্রিয় কিপ্টোকারেন্সি

পুরো বিশ্বে এখন প্রায় হাজারের বেশি ক্রিপ্টো কারেন্সি  চালু আছে। বুঝতেই পারছেন তার সংখ্যা কতটা সীমিত। নিচের মুদ্রাগুলো বিনিময়ের মাধ্যম হিসাবে সবচেয় বেশি এগিয়ে।

বিটকয়েন কি বা বিটকয়েন কাকে বলে ??

বিশ্বর সবচেয়ে জনপ্রিয় ভার্চুয়াল মুদ্রা বা ক্রিপ্টোকারেন্সিগুলোর মধ্যে  সবচেয়ে জনপ্রিয় হলো।

বিটকয়েন। এর বিনিময়ে মূল্য অন্য সব মুল্যের তুলনায় অনেক বেশি। ২০১৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এর বাজার মুল্য ছিল প্রায় ২৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। চলতি বছরে একটি বিটকয়েনের বাজার মুল্য হয়ে দাড়িয়েছে ২০ হাজার ডলার।

এথেরিয়ামঃ এটি ২০১৫ সালে আবিস্কৃত হয়। বিনিময়ে দিক থেকে এটি ২য় আবস্থানে আছে। গত ডিসেম্বর পর্যন্ত এর বাজার মুল্য ছিল প্রায়র ৬৭ বিলিয়ন ডলার। যার একটি কয়েনের বাজার মুল্য ৮৪০ ডলার।  কিন্তু হত বছর হ্যাকিংয়ের শিকার হওয়ার পর এর চাহিদা কিছুটাকমে যায়। যার প্রাথমিক বাজার মুল্য ছিল ১০ সেন্ট।বুঝতেঢ তো পারছে কিভাবে দিন দিন ভেরেই চলছে এর দাম।

রিপলঃ ২০১২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় রিপল। যার বাজার মুল্য ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। তবে এটি অন্যান্য ক্রিপ্টোকারেন্সির মত না।  ক্রিপ্টোকারেন্সির পিয়ার টু পিয়ার পদ্ধতি ছাড়াও অনেক ব্যাংক ডিজিটাল মুদ্রা হিনাবে এটিকে ব্যবহার করছে।

লাইট কয়েনঃ এটা অনেকটা বিটকয়েনের মত কিন্তু বিটকয়েনের চেয়ে দ্রুত লেনদেন করা যায়। এর বাজার মুল্যা প্রায় ৫ বিলিযটন ডলার 

বিটকয়েন কেন এত জনপ্রিয়?

একটা কথা আছে প্রচারে প্রসার সেটাই ঘটেছে বিট কয়টেনের ক্ষেত্রে। ২০১৩ সালে মুদ্রাটির বাজার মুল্য হয়ে উঠে প্রায় ১০ হাজার ডলার তার পর থেকে মুদ্রাটি  ব্যাপক ভাবে জনপ্রিয়তা লাভ করে। অনলাইনে ডলার, ইউরোর কিনার মত বিটকয়েন কেনা যায়।এর জনপ্রিয়তার মুল কারন এর ব্যক্তিক কিংবা প্রাতিষ্ঠানিক মালিকানা থাকে না। অন্যান্য মুদ্রার বেলায় যেমন সরকার কিংবা কেন্দ্রীয় ব্যাংক জড়িত থাকে ,তাদের মাধ্যমেই টাকার ট্রান্সিশন ঘটে কিন্তু ক্রিপ্টোকারেন্সির বেলায় সম্পূর্ণ ভিন্ন।

কীভাবে কাজ করে ডিজিটাল মুদ্রা বা ক্রিপ্টোকারেন্সি।

ক্রিপ্টোকারেন্সি এক ধরনের বিকেন্দ্রিকরণ পদ্ধতির মাধ্যমে কাজ করে। এ প্রযুক্তি ব্যবহার করে  অনলাইনের মাধ্যমে নিরাপদে অর্থ লেনদেন করা যায়।লেনদেনকারীর সকল তথ্য এক্ষেত্রে গোপন থাকে। কোথা থেকে টাকা পাঠাচ্ছে কিংবা কোথা থেকে টাকা আসছে তার কোন হদিছ থাকে না, এখানে শুধু ব্যবহারকারীদের একটি করে ওয়ালেট একাউন্ট থাকে।  ওয়ালেট খুলে সরাসরি টাকা ট্রান্সফার করা যায়। কোন ব্যাংক কিংবা তৃতীয় পক্ষের দারস্থ হতে হয় না। প্রচলিত মুদ্রার মত এর কোন সরকারি কিংবা কোন প্রাতিষ্ঠানিক মালিকানা থাকে না। মাইনিং নামে  একধরনের ডিজিটাল পদ্ধতি ব্যবহার করে ক্রিপ্টোকারেন্সি তৈরি হয়। ব্লকচেইনের মাধ্যমে ক্রিপ্টোকারেন্সি কাজ করে ।

ব্লকচেইন হল এক বিস্তৃত নেটওয়ার্কের নাম। বিশ্বের অসংখ্য কোম্পিউটারকে সংযুক্ত করে একটি নেটওয়ার্ক তৈরি করা হয়েছে যার মাধ্যমে ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেন এবং পর্যবেক্ষণ করা হয়। এই বিস্তৃত নেটওয়ার্কে ব্যবস্থার নাম হল ব্লকচেইন। ব্লকচেইন ব্যবহার করে সাধারণ লেনদের সহ বন্ড, স্টক ও অন্যান্য আর্থিক সম্পদের কেনাকাটা করা যায়।

বিটকয়েন বা ক্রিপ্টোকারেন্সির কিভাবে কাজ করে?

আপনি চাইলে অনলাইনে ব্রোকারদের কাছ থেকে এ মুদ্রা কিনতে পারেন। কিপ্টোগ্রাফি নামে এক ধরনের ওয়ালেট ব্যবহার করে মুদ্রা রাখা হয়।এটি একটি ডিজিটাল মুদ্রা তাই দিন দিন এর চাহিদা বাড়ার সাথে সাথে এর দাম ও বেড়েই চলছে অনেক শেয়ার বাজারের মত উঠানামা করে ক্রিপ্টোকারেন্সির বাজার।

বিটকয়েন বা ক্রিপ্টোকারেন্সির লেনদেন কিভাবে হয়?

ক্রিপ্টোগাফিতে ২৭ থেকে ৩৪ অক্ষরের একটি আইডি খুলে ইন্টারনেটে একাউন্ট খুলে এই মুদ্রা লেদেন করা যায়।

বিটকয়েন লেনদেন কোন ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রয়োজন হয় না।  ইলেক্ট্রনিক মাধ্যমে দুজন ব্যবহার কারীর মধ্যে পিয়ার-টু-পিয়ার আদান -প্রদান ঘটে। লেনদেনর নিরাপত্তার জন্য কিপ্টোগ্রাফি নামে এক ধরনের পদ্ধতি ব্যববহার করা হয়।

বিটকয়েনে বিনিয়োগ বাড়ার কারণ বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফিতি যারা বিটকয়েনে ইনভেস্ট করেছিল তাদের সম্পদ বেড়ে দাড়িয়েছে কয়েক’শগুণ। রাশিয়া নিষিদ্ধাজ্ঞা থেকে বাচতে ক্রিপ্টোকারেন্সির ব্যবহার করছে।

বিটকয়েনের পরিমাণ কত

বর্তমানে মার্কে প্রায় এক হাজার বিটকয়েন প্রচলিত রয়েছে। বিশ্লেষকদের মত অনুযায়ী প্রচলিত পদ্ধতি ব্যবহার করে সর্বোচ্চ  ২ কোটি ১০ লাখ বিটকয়েন উৎপাদন সম্ভব। বিটকয়েনকে বল হয়” ভার্চুয়াল গুল্ড”।  স্বর্ণ খনি থেকে স্বর্ণ উৎপাদনের পর এক পর্যায়ে যেভাবে স্বর্ণের সরবরাহ শেষ হয়ে যায় এবং উত্তোলপত স্বর্ণ ক্রয় বিক্রয় করা যায়, নতুন করে উত্তোলনের সুযোগ থাকবে না, বিটকয়েনের ব্যপারটা ও একই রকম। একট নির্দিষ্ট সময় পরে নতুনকরে আর বিটকয়েন উৎপাদন সম্ভব নয়। বিটকয়েন উৎপাদন পদ্ধতিকে বলা হয় মাইনিং।

বিটকয়েন মাইনিং বা বিটকয়েন খনি কী?

স্বর্ণ কিংবা খনিজ সম্পদ মাইনিং আমরা শুনেছি কিন্তু এই বিটকয়েন মাইনিং কী। বিটকয়েন মাইনিং হল  গাণিতিক এলগরিদম সমাধানের মাধ্যমে বিটকয়েন উত্তলন করতে হয় যা বিটকয়েন মাইনিং নামে পরিচিত। বর্তমানে যে হারে মাইনিং চলছে তার অনুপাত বিচার করলে ২ কোটি ১০ লাখ বিটকয়েন মানিংয়ে সময় যাবে ২১৪০ সাল পর্যন্ত পর্যন্ত। 

বিটকয়েনের প্রকারভেদ

বিটকয়েনের বিভক্তি ঘটেছে  তাই চলতি বছরের আগস্ট আগ পর্যন্ত সকল বিটকয়েন ভার্চুয়ালি।

  • ১। ভার্চুয়ালি বিটকয়েন 
  • ২। ক্যাশ বিটকয়েন।

যদি কেউ ১ আগস্টের আগে একটি বিট কয়েন কিনে থাকে তাহলে সে একটি বিটকয়েন ক্যাশের মালিক যার বাজার মুল্য ১ হাজার ৩০০ ডলার।

বিটকয়েন এর ইতিহাস

২০০৯ সালে ডিজিটাল মুদ্রাহিসাবে বিটকয়েনের আবির্ভাব ঘটে। ২০০৯ সালে জাপানি নাগরিক সাতোশি নাকামোতা নামের একজন বা একদল সফটওয়ার বিজ্ঞানী ক্রিপ্টোকারেন্সির উদ্ভাবন করেন।

বিটকয়েনের দাম কেন বাড়ে-কমে?

১। বিটকয়েনের চাহিদা ও জোগানের কারনে

 ২। মাইনিংয়ের মাধ্যমে বিটকয়েন তৈরির খরচ হয়

 ৩। ব্লকচেইনে লেনদেন যাচাইয়ের মাধ্যমে প্রাপ্ত পারিশ্রমিকের কে কারণে

 ৪। প্রচলিত বিটকয়েনের পরিমাণ কম

 ৫। যে মাধ্যমে বিনিময় হয় তার কারণে

৬। বিটকয়েনে লেনদেনে নানা রাষ্ট্রের বিধিনিষেধ রয়েছে

 ৭। বিটকয়েনের অভ্যন্তরীণ পরিচালনব্যবস্থার কারণে

বিটকয়েনের দাম উঠানামা করে।  ভুয়া সংবাদ প্রচার, অনুমান প্রাপ্যতা, সীমাবদ্ধতা ইত্যাদির উপর ভিত্তি করে বিটকয়েনের দাম বাড়ে -কমে। যেমন নেতিবাচক সংবাদ প্রচারিত হলে বিনিয়োগ কারীরা তড়িঘড়ি করে বিটকয়েন বিক্রয় করে দেন তখন বিটকয়েনের দাম পরে যায়। আবার উল্টটাও ঘটে যখন ইতিবাচক সংবাদ পায় তখন তখন চাহিদা বাড়ার কারণে দামও বাড়ে।আবার  বিনিময়ের মাধ্যম হিসাবে যত বেশি বিটকয়েন ব্যবহার হবে ততবেশি এর দাম বৃদ্ধি পাবে। মুলত চাহিদা বিধির উপর এর দাম নির্ভর করে।

আবার অনেক মানুষ প্রচলিত মুদ্রার উপর বিশ্বাস রাখতে না পারার কারনে বিকল্প মুদ্র হিসাবে বিট কয়েনকে ব্যবহার করছে। তাছাড়া কোন কেন্দ্রীয়নিয়ন্ত্রন ব্যবস্থা না থাকার কারনে এটির গ্রহনযোহ্যতা বৃদ্ধি পাছে ফলে দাম ও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

আবার বিভিন্ন দেশের নিষেধাজ্ঞা ক্রিপ্টোকারেন্সির দামের উপর প্রভাব ফেলে। যেমন চিনে বিটকয়েন ব্যবহার নিষিদ্ধ হওয়ার পর সে দেশে বিটকয়েনর দাম কমতে থাকে।

একটি বিটকয়েনর দাম কত?

১ বিটকয়েন =$ 40704.20 USD   bitcoin i dollars

যার মুল্য বাংলাদেশি টাকায় ৩৪৫৯৮৫৭ টাকা  বিটকয়েন বাংলাদেশ

সম্প্রতি সময়ে ভগনাংশ আকারে কিনা যায় বিটকয়েন। উদ্ভাবকের নামের সাথে মিল রেখে এর নাম রাখা হয়ে সাতোশি। এক বিটকয়েনের ১০ কোটি ভাগের এক ভাগ সমান এক সাতোশি।

বিটকয়েন ব্যবহারের সুবিধা সমুহ,কেন মানুষ বিটকয়েন ব্যবহার করে।

১। লেনদেনর জন্য কোন মাধ্যমের প্রয়েজন হয় না যেমন ব্যাংক, সরাসরি লেনদেন করা যায়।

২।কোন মাধ্যম না থাকায় ট্রান্জিশন খরচ নেই যেমন ব্যাংকে টাকা লেনদেন করলে আপনাকে কিছু টাকা চার্জ পরিশোধ করতে হবে।

৩।লেনদেনরকারীর পরিচয় গোপন থাক।

৪।খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে বিশ্বের যে কোন স্থানে টাকা পাঠানো যায়।

৫। মানি এক্সচেঞ্জ চার্জ,  এক্সচেঞ্জ জামেলা নেই। 

৬।ক্রিয়োটোগ্রফিতে বিটকয়েন সঞ্চয় করার মাধ্যমে পরবর্তিতে অধিক দামে বিক্রয় করা যায়।

বিটকয়েন কেন নিষিদ্ধ 

১। কোন কেন্দ্রীয়  নিয়ন্ত্রণ না থাকায় জালিয়াতির সম্ভাবনা বেশি।

২। টাকা ট্রান্সফারের পর পুনরায় ফিরৎ পাওয়ার কোন সুযোগ নেই।

৩। ট্রানজেকশন  এপ্রোব হতে অধিক সময় লাগে।

৪। এর বাজার মুল্য চরম মাত্রায় অস্থিতিশীল 

৫।ওয়ারেট নষ্ট হয়েগেলে টাকা আর ফেরত পাবেন না।

৬। দুর্নীতি, অর্থপাচার, স্মাগলিং সহ বিভন্ন অনৈতিক কাজে ব্যবহার হয়।

৭। হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে টাকা চুরির সম্ভাবনা ও প্রবল।

বিটকয়েন লেনদেন ব্যবস্থা কারা নিয়ন্ত্রণ করে?

বিটকয়েন এর মালিক কে

কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা না থাকায় বিটকয়েন লেনদেন করতে বা নেটওয়ার্ক নিরাপদ রাখতে নপর্ভর করতে হয়  সফটওয়ার ডেভেলপার এবং মাইনারদের উপর।

নির্ভরশীলতার কারনে সাধারণ সমস্যা সমাধান করতে ও অনেক সময় লেখে যায়। ফলে বিটকয়েন কমিউনিটিতে হতাশা বাড়ছে।

কিভাবে বিটকয়েন লেনদেন হয়ঃ বিটকয়েন লেনদেন হয় সফটওয়ার এর মাধ্যমে বর্তমানে বিটকয়েন যে সফটওয়্যার এর মাধ্যমে লেনদেন হয় তাতে সেকেন্ড তিনটি বিটকয়েন লেনদেন করা সম্ভব। কিন্তু গ্রাহক বৃদ্ধি পাওয়ার সফটওয়ার ধীগতির হয়ে পরছে। একটি নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে অনলাইনে আদান প্রদান হয়।ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেন হয় ক্রিপ্টোগ্রাফি নামে একটি পদ্ধতির মাধ্যমে।  এ পদ্ধতিতে প্রচলিত ভাষা সংকেতকে কোডিং ব্যবহার করে লেখা হয়।  ব্যবহারকারী ছাড়া কোডিং ভেঙ্গে তথ্য উদ্ধার প্রায় অসম্ভব।  সেখানে ক্রিপ্টোগ্রফি পদ্ধতি ব্যবহারকারী ছাড়া অন্য কারো তথ্য পাওয়া যায় না।

কিপ্টোগ্রাফি কী?

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এ পদ্ধতি চালু করা হয়েছিল গোপনে ও নিরাপদে যোগাযোগের জন্য।  

তত্বের  উন্নতি ও কম্পিউটার বিজ্ঞানের অগ্রগতির ফলে ক্রিপ্টোগ্রাফির ও উন্নতি হয়েছে। এর মাধ্যমে অনলাইন মুদ্রা সংরক্ষণ ও আদান-প্রদান নিরাপদ হয়ে উঠেছে।

কঠোর গোপনীয়তার মাধ্যমে অর্থ লেনদেনের মাধ্য হয়ে উঠেছে ক্রিপ্টোকারেন্সি আর এর আনজাম দিচ্ছে ক্রিপ্টোগ্রাফি।

বিটকয়েন কিভাবে উৎপাদন বা জেনারেট হয়

মাইনিংকরে বিটকয়েন উৎপাদন করতে হয়। এর জন্য অনেক গুলো শক্তিশালী পিসির প্রয়োজন হয়। প্রাথমিক ভাবে হলেও আপনাকে ৪-৫ লক্ষ টাকা ইনভেস্ট করতে হবে মাইনিংকরে বিটকয়েন উৎপাদন করতে হলে। ২০২০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট উৎপাদিত বিটকয়েনর পরিমাণ ১ কোটি ৮৫ লাখ ৮৭ হাজার যা মোট বিটকয়েন যোগানের ৮৮ দশমিক ৫ পারসেন্ট। বর্তমান হার অনুযায়ী প্রতি ১০ মিনিটে একটি করে বিট কয়েন তৈরি হবে। এখন বিটকয়েন মাইনর যদি মাইনিং করেন তব প্রতি ১০ মিনিটে ১টি করে বিট কয়েন উৎপাদন সম্ভব। বিশ্ব ব্যপি ১০ লাখ মানুষ মাইনিং করছে বিধায় এখন উৎপাদনে মাত্রা অনেক কম।

বিটকয়েন কোন কোন দেশে বৈধ

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে।

  • কানাডা (Canada)
  • নেদারল্যান্ড (Netherlands)
  • জর্জিয়া (georgia)
  • এস্টোনিয়া (Estonia)
  • স্লোভেনিয়া (Slovenia)
  • দক্ষিণ কোরিয়া (South Koria)
  • ডেনমার্ক (Danmark)

সালভাদ তাদের দেশের দ্বিতীয় মুদ্রা হিসাবে বিটকয়েন চালু করেছে । সে দেশে বিটকয়েন বুথ ও রয়েছে। এছাড়াও জাপান, সিঙ্গাপুর, আরব আমিরাত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এর কেন্দ্রীয় ব্যাংক সমুহ ক্রিপ্টোকারেন্সিতে লেনদেনর বৈধতা দিয়েছে।

বাংলাদেশে কি বিটকয়েন বৈধ,বিটকয়েন আইন  বাংলাদেশ

না,  বাংলাদেশে বিট কয়েন বৈধ নয় বরং এর সঙ্গে যারা জরিত তাদের আফনের আওতায় আনা হচ্ছে। তবে বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংক পর্যবেক্ষণ করছে।১৯৪৭; সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯ এবং মানি লন্ডারিং আইন ২০১২  এর আওতায় বাংলদেশের পেক্ষাপটে ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদরন অপরাধ। 

বিটকয়েন ওয়ালেট কি?

বিটকয়েন ওয়ালেট হল  বিটকয়েন সংরক্ষনের জন্য একটি স্টোর । মনে করোন আপনার কাছে পাচশত টাকা আছে  তাহলে আপনি টাকাটাকে  নিশ্চই আপনরা পারসনাল মানিবেগে রাখবেন, যাতে টাকাটা পরে না যায় । আর বিটকয়েন সংরক্ষণ করার এই মানিবেগকে বিটকয়েন ওয়ালেট বলে।

বিটকয়েন কোন দেশের মুদ্রা

বিটকয়েন কোন দেশের মুদ্রানয় এর কোন সরকারি কিংবা প্রাতিষ্ঠানিক মালিকানা নেই । এটা অনেকটা স্বর্ণের মত স্বর্ণর যেভাবে  ভেলু আছে কোন প্রকার এক্সচেইঞ্জ ছাড়া লেনদেন কারতে পারবেন বিটকেয়ন ও আপনি কোন প্রকার এক্সচেইঞ্জ ছাড়া লেনদেন করতে পারবেন।

বিটকয়েন একাউন্ট খোলার নিয়ম

যে কোন বাউযার ইউজ করে < coinbase> লিখে সার্চ দিতে হবে।

পেইজে ঢুকার পর < get started> ক্লিক করোন, <create account >  নামে একটি ফর্ম পাবেন ফর্মটি ফিলাপ করোন।email অবশ্যই বেলিড মেইল দিবেন অর্থাৎ যে মেইলটি বর্তমানে চালু রয়েছে।<password> আপনার পছন্দ অনুযায়ী পরে,<chack option> পরে < create account > ক্লিক করার পর  একটি ভেরিফই মেইল আসবে। মেইল বক্সে ঢুকে <verify email adress> ইমেইল অপশনে ক্লিক করতে হবে। ক্লিক করার পর ফেন নাম্বার অপশন আসবে, আপনার যে নাম্বারটি বর্তমানে চালু আছে সেটি দ্বারা অপশন ফিলাপ করে <।san code> অপশনে ক্লিক করোন কোডটি টাইপ  কেরান। বাস হয়েগেল আপনার বিটকয়েন একাউন্ট।

বিটকয়েন আয় বা ইনকাম করার উপায়

১্।বিনিয়োগ বা ট্রেডিং  এর মাধ্যমেঃ প্রথমে আপনাকে কিছু টাকা দিয়ে বিটকয়েন কিনবেন পরে দাম বাড়ার সাথে সাথে আপনি সেটা বিক্রয় করে দিলেন , একেই  বলে ট্রেডিং।

২। মাইনিংঃ অর্থাৎ আপনি বিটকয়েন জেনারেইট করবেন। মাইনিং এর ধারণা পূর্বে দেয়া আছে।

বিটকয়েন ইনভেস্টমেন্ট বা বিনিয়োগ

যেহেতু বাংলাদেশের পেক্ষাপটে এটি আইনত অপরাধ তাই এতে বিনিয়োগ না করা ভালো। তাছাড়া কোন নিয়ন্ত্রণকারী না থাকায় প্রতারিত কিংবা হ্যাকিং মাধমে টাকা হারানোর সম্বাবনা বেশি।

 

Please Share this article

Leave a Reply